ইবন হাযম দশম শতকেই জানতেন পৃথিবী গোলাকার

লিখেছেনঃ সালমান আব্দুল্লাহ
গোল পৃথিবী 
পৃথিবীর আকৃতি গোলকীয় (Spherical)- এটা এখন প্রমাণিত। কিন্তু এটা খুব বেশি দিন আগে প্রমাণিত হয়নি। স্প্যানিশ অভিযাত্রী জুলিয়ান সেবাশ্চিয়ান এলকানো (১৪৭৬-১৫২৬) সর্বপ্রথম পুরো পৃথিবী ঘুরে এসে গোলাকার পৃথিবীর পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দিয়েছিলেন। এর আগেও গ্রিকদের কেউ কেউও গোলাকার পৃথিবীর ধারণা সমর্থন করতেন। তবে সে ধারণা অনেকেই মেনে নেয়নি।

নবম শতকের দিকে অন্যান্যের মধ্যে বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত ইবনে হাজম (৯৯৪-১০৬৪) পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি আরো বেশি পরিচিত হয়েছিলেন এ কারণে যে, তিনি তার এই ধারণার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন পবিত্র কুরআনের একটা আয়াতকে।
সূরা জুমারের ৫ নং আয়াতে উল্লেখ আছে,
"তিনি দিনকে রাত দ্বারা আবৃত করেন এবং রাতকে আবৃত করেন দিন দ্বারা।" 
এই আয়াতে আবৃত করা অর্থে যে আরবী শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি হলো 'কাওয়ারা' যেটি আবার উৎপত্তি লাভ করেছে 'কুরা' শব্দ থেকে। এর অর্থ হচ্ছে বল বা গোলক। এবং পরবর্তীতে আকাশ ও পৃথিবী নিয়ে আরো বিস্তর গবেষণা শেষে তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন এবং ঘোষণা করলেন,
"সূর্য সবসময়ই পৃথিবীর কোন বিশেষ স্থান থেকে লম্বভাবে অবস্থান করছে।" 
এভাবেই জোতির্বিজ্ঞানী ইবনে হাজমের প্রামাণিক বিবৃতি পৃথিবী ও মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এর মধ্যে ছিলেন ভূতাত্ত্বিক আল ইদরিসিও (১১০০-১১৬৫), যিনি ইবন হাযমের মত অনুসারে পৃথিবীকে একটি গ্লোব বা গোলক আকারে চিত্রিত করেছিলেন। পৃথিবীর ভৌগলিক পরিচিতি ও মানচিত্র অঙ্কনে আল ইদরিসির আঁকা মানচিত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে।

সূত্রঃ
১। উইকিপিডিয়াঃ Spherical Earth, Ibn Hazm, Juan Sebastián Elcano
২। The Independent (UK): How-islamic-inventors-changed-the-world
৩। Islamic Inssight: Muslim-contributions-to-geography

Latest


EmoticonEmoticon