ইবন হাযম দশম শতকেই জানতেন পৃথিবী গোলাকার

লিখেছেনঃ সালমান আব্দুল্লাহ
গোল পৃথিবী 
পৃথিবীর আকৃতি গোলকীয় (Spherical)- এটা এখন প্রমাণিত। কিন্তু এটা খুব বেশি দিন আগে প্রমাণিত হয়নি। স্প্যানিশ অভিযাত্রী জুলিয়ান সেবাশ্চিয়ান এলকানো (১৪৭৬-১৫২৬) সর্বপ্রথম পুরো পৃথিবী ঘুরে এসে গোলাকার পৃথিবীর পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দিয়েছিলেন। এর আগেও গ্রিকদের কেউ কেউও গোলাকার পৃথিবীর ধারণা সমর্থন করতেন। তবে সে ধারণা অনেকেই মেনে নেয়নি।

নবম শতকের দিকে অন্যান্যের মধ্যে বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত ইবনে হাজম (৯৯৪-১০৬৪) পৃথিবীর গোলাকার হওয়ার ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি আরো বেশি পরিচিত হয়েছিলেন এ কারণে যে, তিনি তার এই ধারণার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন পবিত্র কুরআনের একটা আয়াতকে।
সূরা জুমারের ৫ নং আয়াতে উল্লেখ আছে,
"তিনি দিনকে রাত দ্বারা আবৃত করেন এবং রাতকে আবৃত করেন দিন দ্বারা।" 
এই আয়াতে আবৃত করা অর্থে যে আরবী শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে সেটি হলো 'কাওয়ারা' যেটি আবার উৎপত্তি লাভ করেছে 'কুরা' শব্দ থেকে। এর অর্থ হচ্ছে বল বা গোলক। এবং পরবর্তীতে আকাশ ও পৃথিবী নিয়ে আরো বিস্তর গবেষণা শেষে তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন এবং ঘোষণা করলেন,
"সূর্য সবসময়ই পৃথিবীর কোন বিশেষ স্থান থেকে লম্বভাবে অবস্থান করছে।" 
এভাবেই জোতির্বিজ্ঞানী ইবনে হাজমের প্রামাণিক বিবৃতি পৃথিবী ও মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এর মধ্যে ছিলেন ভূতাত্ত্বিক আল ইদরিসিও (১১০০-১১৬৫), যিনি ইবন হাযমের মত অনুসারে পৃথিবীকে একটি গ্লোব বা গোলক আকারে চিত্রিত করেছিলেন। পৃথিবীর ভৌগলিক পরিচিতি ও মানচিত্র অঙ্কনে আল ইদরিসির আঁকা মানচিত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে।

সূত্রঃ
১। উইকিপিডিয়াঃ Spherical Earth, Ibn Hazm, Juan Sebastián Elcano
২। The Independent (UK): How-islamic-inventors-changed-the-world
৩। Islamic Inssight: Muslim-contributions-to-geography

আইনস্টাইন কি আসলেই নাস্তিক ছিলেন

এ বছর* মার্চের ১৭ তারিখ বাইসেপ (BICEP) গবেষণা গ্রুপ হাভার্ড-স্মিথসোনিয়ান জ্যোর্তিপদার্থবিজ্ঞান কেন্দ্রে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞানের জগতে এ এক অনন্য আবিষ্কার। যদি আরো অধিক গবেষণা দ্বারা এর সত্যতা নিখুঁতভাবে প্রমাণিত হয়, তবে বিজ্ঞানের জগতে আরো নতুন কিছু অতীব গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে[১]

প্রথমত, এটি হবে আইনস্টাইনের ধারণার প্রথম বাস্তব পর্যবেক্ষণ। আইনস্টাইন ১৯১৬ সালে তার সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বলেছিলেন যে, অধিক ভরের ত্বরান্বিত বস্তুরা পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেয়ে স্থান-কালকে এমনভাবে বিকৃত করে দেয় যে সেটা তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। আর এই তরঙ্গই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। দ্বিতীয়ত, এই আবিষ্কার ‘ইনফ্লেশন’ তত্ত্বের সত্যতা যাচাই করবে। এই তত্ত্বটি অ্যালেন গুথ ১৯৮০ সালে প্রস্তাব করেন। এতে বলা হয়, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পরপরই মহাবিশ্ব এক সেকেণ্ড থেকেও অনেক ক্ষুদ্র সময়ের জন্য সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পায়। আর এর পরপরই মহাবিশ্ব আবার স্বাভাবিক সম্প্রসারণে ফিরে আসে যেভাবে বর্তমানে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। তৃতীয়ত, বাইসেপ কর্তৃক আবিষ্কৃত মহাকর্ষীয় তরঙ্গ একটি কোয়ান্টাম ঘটনা। যদি তাই হয় তবে আলোর ক্ষেত্রে যেমন শক্তির ন্যূনতম প্যাকেট পাওয়া যায় যাকে আমরা ফোটন বলি, ঠিক তেমনি মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ক্ষেত্রে শক্তির ন্যূনতম প্যাকেট থাকবে এবং একে ‘গ্র্যাভিটন’ বলা হবে। আর এই গ্র্যাভিটন-ই হবে মহাকর্ষীয় বলের ধারক। নতুন এই উদ্ভাবন ‘বিগ ব্যাঙ’ তত্ত্বের সত্যতাকেও সমর্থন করে।

বিজ্ঞানী আইনস্টাইন 

বিজ্ঞানের এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে মোটামুটি সাইজের একটি টেলিস্কোপ দিয়ে যেটাকে অ্যান্টার্কটিকায় বরফের উপর স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানীই একে আরো ব্যাপকভাবে দেখছেন। ইনফ্লেশন কীভাবে বন্ধ হল এ ব্যাপারে পদার্থবিজ্ঞানীদের এখনও কোন ধারণা নেই এবং আমরা শুধু এতটুকু জানি যে বর্তমান মহাবিশ্ব তৈরির জন্য ইনফ্লেশন থেমে গিয়েছিল। কিন্তু কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা অনুসারে ইনফ্লেশন একটি চির-চলমান ঘটনা।

এ দুটি বিপরীতমুখী শর্তের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য অনেক পদার্থবিদ অসংখ্য মহাবিশ্বের ধারণা করেন। একটি মহাবিশ্বে ইনফ্লেশনের পর ইনফ্লশেন ফিল্ড আরেকটি মহাবিশ্বে স্থানান্তরিত হয়। এই ধারণার কারণে অনেক বিজ্ঞানী এবং সমাজ সমালোচক দাবী করেন যে প্রভু বা স্রষ্টা বলতে কিছু নেই, মহাবিশ্ব কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিস্তার লাভ করছে, একটি মহাবিশ্ব তার পূর্বের মহাবিশ্ব থেকে জন্মলাভ করছে। এমনকি নতুন এই উদ্ভাবনের পূর্বেই, ইনফ্লেশন এবং বহু মহাবিশ্বের ধারণা ব্যবহার করে নাস্তিকতার উপর বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন বই, ভিডিও এবং লেকচার তৈরি করা হয়েছিল। এ সবের মধ্যে লরেন্স এম. ক্রজ-এর ‘A Universe from Nothing’ বইটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এ বইটিতে তিনি মহাবিশ্ব আপনা আপনি তৈরি হয়েছে- এর পক্ষে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

‘বিগ ব্যাঙ বা মহাবিস্ফোরণ ব্যাখ্যার জন্যে তৈরি প্রায় সবগুলো তত্ত্বই আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ জন্য ক্রজ সহ আরো অনেক কসমোলজিস্ট বিংশ শতাব্দীর এই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীকে নাস্তিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। ক্রজের পাশাপাশি রিচার্ড ডকিন্সও তার ‘The God Delusion’ বইয়ে একই দাবি করেছেন।

কিন্তু ক্রজ এবং ডকিন্স  ইতিহাসের একটি বড় ধরনের অপব্যাখ্যা করছেন। আইনস্টাইন অবশ্যই আস্তিক ছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে ‘স্রষ্টা’র সংজ্ঞা যে রকম ছিল তাঁর কাছে সে রকম ছিল না। আমি প্রায় পনের বছর ধরে আইনস্টাইনের লেখা নিয়ে গবেষণা করছি। তাই, এই ভুল ধারণা সংশোধন করা আমার মৌলিক দায়িত্ব।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন স্পিনোযা-এর প্রভুতে বিশ্বাস করতেন। স্পিনোযা ছিলেন একজন ডাচ দার্শনিক। তার মতে প্রভু হচ্ছে এমন সত্ত্বা যিনি মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর নিয়ম নীতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন কিন্তু তিনি মানুষের ভাগ্য বা আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করেন না। আইনস্টাইনের কাছে, প্রভু হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞানের সব সূত্রের স্রষ্টা। আর তিনি তার সারা জীবন এই সূত্রগুলো খুঁজে বের করার কাজে ব্যয় করেছেন। তার এই ধারণা পশ্চিমা বিশ্বের প্রচলিত সব ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আলাদা। কিন্তু এটাও ঠিক ক্রজ এবং ডকিন্স যে রকম নাস্তিকতার ধারণা পোষণ করেন আইনস্টাইন এসব ধারণা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেছেন। ক্রজ আইনস্টাইনের কথার আসল ব্যাখ্যা না দিয়ে তার বইয়ে নিজের মত করে একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রিচার্ড ডকিন্সও তার বইয়ের ‘A Deeply Religious Non-Believer’ অধ্যায়ে আইনস্টাইনকে উল্লেখ করে একই ধরনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

১৯১৩ সালে যখন তিনি প্রাগুতে ছিলেন তখন তিনি ইহুদীদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে যেতেন এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলতেন। ফলসিং এবং ফ্রাঙ্কের মত অনেক জীবনীলেখক এই কথা স্বীকার করেছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে বিশ্বাস করতেন যে মহাবিশ্ব আপনা আপনিই শূন্য থেকে তৈরি হয়ে যায়নি। আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন,
আমি বিশ্বাস করি না যে স্রষ্টা এই বিশ্ব নিয়ে লুডো খেলেন। 

যখন তিনি তার আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সাথে বিরোধপূর্ণ একটি বাস্তব পর্যবেক্ষণের কথা শুনেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন,
স্রষ্টা খুবই ধূর্ত, কিন্তু কখনই বিদ্বেষপরায়ণ নয়। 
তার একটা বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে,
আমি স্রষ্টার চিন্তাকে জানতে চাই-এছাড়া বাকি সবই বিস্তৃতি। 
এ কথার দ্বারা তিনি আসলে বুঝাতে চেয়েছেন যে স্রষ্টা কিভাবে এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তা জানতে চান কিন্তু তিনি কোন প্রাকৃতিক ঘটনায় বিশ্বাসী নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, রংধনু কী বা কেমন তাতে আইনস্টাইনের কোন আগ্রহ নেই কিন্তু রংধনু কেন বিদ্যমান এটাই তার চিন্তার কারণ।
আইনস্টাইন বিশিষ্ট জ্যোর্তিবিদ এরউইন ফিনলে-ফ্রন্ডলিখ এর কাছে ১৯১৪ সালে একবার একটা ব্যক্তিগত পত্র লিখেছিলেন। আমি এটা সর্বপ্রথম খুঁজে পাই। পত্রটি জার্মান ভাষায় লিখা ছিল। আমার বাবা জার্মান ভাষায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন।
আইনস্টাইন  সেই চিঠিতে লিখেছিলেন,
এটা খুবই লজ্জাস্কর যে স্রষ্টা আমাদেরকে বৃহস্পতির চেয়ে বড় গ্রহ দেননি। 

আইনস্টাইন এ কথা বলেছিলেন যখন তিনি এবং ফ্রন্ডলিখ বৃহস্পতির চারদিকে নক্ষত্রের আলো বাঁকিয়ে যাওয়া শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আইনস্টাইন এ কাজ করতে চেয়েছিলেন ‘বিশাল ভরের বস্তুর চারদিকে স্থান-কাল বেঁকে যায়’ –আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্বের সাহায্যে তা প্রমাণ করার জন্য। পাঁচ বছর পরেই আর্থার এডিংটন সূর্যের পূর্ণ গ্রহণের সময় এর চারদিকে আলো বেঁকে যায়- এটি শনাক্ত করেন।

আইনস্টাইন সব সময় এক অদৃষ্ট স্রষ্টার উপর বিশ্বাস রেখে তার সব চিন্তা করতেন। যে স্রষ্টা পদার্থবিজ্ঞানের সব সূত্র বানিয়ে রেখেছেন-যিনি অচল বৃদ্ধ জেনেসিসের মত না বরং যিনি এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন, তা না করলেও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো অবশ্যই তৈরি করেছেন। আমরা বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার নিয়ে যত বেশি চিন্তা করছি ততই বুঝতে পারি আইনস্টাইন তার বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনায় কতটা সঠিক ছিলেন। তাই আমাদের সামর্থের উপর এতটা আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত না যে, আমরা আইনস্টাইনের স্রষ্টাকে অস্বীকার করব।

* অরিজিনাল আর্টিকেলটি ১৪ জুন, ২০১৪ তারিখে আপডেট হয়।
[১] ২০১৬ সালে এর সত্যতা প্রমাণিত হয় - সম্পাদক।

মূলঃ আমির আকজেল, গণিতবিদ ও গবেষক, বোস্টন ইউনিভার্সিটি। তিনি ফার্মার শেষ উপপাদ্যসহ গণিত ও পদার্থবিদ্যার অনেকগুলো জনপ্রিয় বইয়ের লেখক।
রূপান্তরঃ ইকরামুল হাসান

সূত্রঃ হাফিংটন পোস্ট

কুরআনের বৈজ্ঞানিক পরিভাষাঃ সুরা ইউনুস

সুরাঃ ইউনুস
ক্রমঃ ১০ 
খুঁজে বের করেছেনঃ রফিকুল ইসলাম 
এটা খসড়া সংস্করণ। ভবিষ্যতে আপডেট হবে ইনশাল্লাহ। 

আয়াত
পরিভাষা
বিজ্ঞানময়
সৃষ্টি, গরম পানি, শরবত
সূর্য, আলোদানকারী, চাঁদ, বছর
দিন ও রাতের পরিবর্তন, মহাকাশ, পৃথিবী, সৃষ্টি
দুনিয়া
নদ-নদী-নহর
১০
মহাজগৎ
১১
মরণ
১২
শুয়া, বসা, দাঁড়ানো
১৩
ধ্বংস
১৫
মহা ভয়াবহ দিন
২২
স্থলভাগ, সমুদ্র, নৌযান
২৩
ধ্বংস
২৪
আকাশ, গজিয়ে উঠা, ভূমিজ উদ্ভিদ, ঘন নিবিড়, মানুষ, রাত, দিন, ধ্বংস
২৬
চিরকাল
২৭
রাতের অন্ধকার, চিরকাল
৩১
আসমান, জমিন, শ্রবণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, মৃত, জীবিত, জীবিত, মৃত
৩৪
সৃষ্টি, সৃষ্টির অস্তিত্ব দেয়া
৩৭
মহাজগত
৩৯
জ্ঞান
৪২
বধির, শুনানো
৪৩
অন্ধ
৪৫
দিন
৪৬
ভয়, জীবনকাল
৫০
রাত, দিন
৫৫
মহাকাশ, পৃথিবী
৫৬
জীবন দান করা, মরণ দেয়া
৫৭
কলব (অন্তর)
৬১
মহাকাশ, পৃথিবী, অণু
৬৪
দুনিয়া
৬৫
শুনা
৬৬
মহাকাশ, পৃথিবী
৬৭
রাত, বিশ্রাম, দিন, দেখা
৬৮
সন্তান
৭০
পৃথিবী
৭২
মুখ ফেরানো
৭৩
নৌযান
৭৪
সীলগালা
৭৬
ম্যাজিক
৭৮
দেশ
৮৩
যুবক
৮৭
ঘর নির্মাণ, ঘর
৮৯
অজ্ঞ
৯০
সমুদ্র, পানিতে ডুবা
৯২
দেহ
৯৯
বিশ্ব, বাধ্য করা
১০১
মহাকাশ, পৃথিবী
১০২
অপেক্ষা, অপেক্ষা, অপেক্ষা
১০৪
ওফাত
১০৬
ডাকা

কুরআনের গাণিতিক অলৌকিকতা

কুরআনের চির-আধুনিক আইন কানুনের পাশাপাশি ভাষার সাহিত্যিক মান ও আধুনিক বিজ্ঞান আলোচনার সাথে সাথে এতে রয়েছে বিস্ময়কর গাণিতিক মিল।
আল কুরআন, মহিমান্বিত কিতাব

যেমন কুরআনে ইনসান বা মানুষ কথাটি এসেছে ৬৫ বার।
সুরা হাজ্জ (২২:৫) এবং সুরা মুমিনূন (২৩:১২-১৪) থেকে জানা যায় মানুষ সৃষ্টির ক্রমিক ধাপগুলো হলো
১. মাটি (তুরাব تُرَابٍ)
২. নুতফা ( نُّطْفَةٍ = জীবনকণা)
৩. আলাকা ( عَلَقَةٍ =জোঁকের মত বস্তু, যা লেগে থাকে, যা ঝুলে থাকে)
৪. মুদগাহ ( مُّضْغَةٍ = মাংসপিন্ড)
৫. ইযামা ( عِظَـٰمًا = হাড়) এবং
৬. লাহম (لَحْمًا = গোশত)

কুরআনের বভিন্ন স্থানে এ শব্দগুলো উলেখ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৭, ১২, ৬, ৩, ১৫ এবং ১২ বার।
এগুলো যোগ করে আমরা পাই ৬৫ যা ইনসান বা মানুষ শব্দের উল্লেখের সমান।

#'সাবয়া সামাওয়াত' অর্থ সাত আসমান। কুরআনে এই সাত আসমান কথাটা সাতবারই এসেছে।
#খালকুস সামাওয়াত বা আসমানসমূহের সৃষ্টি কথাটাও এসেছে ৭ বার।
# সাবয়াতু আইয়াম' মানে ৭দিন। একথাও কুরআনে আছে ৭ বার।
#ইয়াওমুন মানে দিন। সমগ্র কুরআনে এ শব্দটি আছে ৩৬৫ বার। বহুবচন আইয়াম মানে দিনসমূহ। এটা এসছে ৩০ বার। আরবী ভাষায় চাঁদ হচ্ছে মাসের সূত্র সূচক। গড়ে বছরের প্রতি মাসে ৩০ দিন। চাঁদের আরবী কামার' যা কুরআনে এসেছে ৩০ বার!!
#শাহরুন মানে মাস। এটা কুরআনে এসেছে ১২ বার।
#সানাতুন' মানে বছর। শব্দটি এসছে ১৯ বার। এখন আমরা জানি মেতনীয় বৃত্ত এর কথা অর্থ্যাৎ প্রতি ১৯ বছর পর পর সূর্য্য ও পৃথিবী একই বৃত্তে অবস্থান করে।

এবার দেখা যাক কিছু বিপরীত শব্দ--
#'দুনিয়া' ও 'আখেরাত' দুটি কথাই কুরআনে সমান সংখ্যায় এসেছে-১১৫ বার।
#ঈমান ও কুফর শব্দ দুটিও এসছে সমানসংখ্যায়-২৫ বার।
#গরম ও ঠান্ডা শব্দ দুটি এসেছে ৫ বার করে অর্থ্যাৎ সমানসংখ্যক।
#'কুল' মানে 'বলো' আর 'কালু' মানে তারা বলে-এ দুটি কথাও এসেছে সমান সংখ্যায়- ৩৩২ বার করে
#মালাকুন বা মালায়িকা মানে ফেরেশতা এবং অপরদিকে  'শয়তান'- দুটোই এসেছে ৮৮ বার।
# 'আল খবিস' মানে অপবিত্র আর আত তাইয়েব মানে পবিত্র। দুটোই এসেছে ৭ বার করে।
#হায়াত বা জীবন এবং মওত বা মৃত্যু দুটিই ১৬ বার করে এসেছে।

**কিছু শব্দের উল্লেখসংখ্যা কম-বেশি বা সমান হওয়া
#ফুজ্জার বা পাপী শব্দটা এসেছে ৩ বার আর আবরার বা পূণ্যবান শব্দটি এসেছে ৬ বার। বা দ্বিগুণ। কারণ সুরা সাবার ৩৭ নং আয়াত বলছে 'এধরণের (পূণ্যবানদের) জন্যেই রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।
 # সুরা আলে ইমরানের ৫৯ নং আয়াত বলছে হযরত ঈসা আ. এর উদাহরণ আদম আ. এর মতো। দুজনের নামই কুরআনে ২৫ বার এসেছে।
#কুরআন বলে সুদ ও ব্যাবসা একইরকম নয় (সুরা বাকারা-২৭৫)। সুদ শব্দ এসেছে ৬ বার আর ব্যাবসা ৭ বার।

সূত্রঃ
১। আল কুরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ, হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

সুরাভিত্তিক বিজ্ঞানঃ মহাকাশ থেকে লোহা নাযিল

নির্বাচিত আয়াতঃ চলুন কুরআনের সুরা হাদিদের ২৫ নং আয়াতটি নিয়ে বিশ্লেষণ করি। আল্লাহ বলেছেন-

"وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ "

অর্থঃ আর লোহা নাযিল করেছি যার মধ্যে বিরাট শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে। (সুরা আল হাদিদ, ৫৭ঃ ২৫)
ব্যাখ্যাঃ এখানে 'আনযালনা' শব্দের অর্থ 'নাযিল করা', বা উপর থেকে পাঠানো। রূপক হিসেবে অর্থ ধরলে মনে হবে আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য লোহা দান করেছেন । কিন্তু শব্দটিকে আক্ষরিক অর্থে বিবেচনা করলে অর্থ্যাৎ যেভাবে বৃষ্টি ও বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আয়াতাংশটি বিজ্ঞানের অলৌকিকতায় পরিণত হয়।
অর্থ্যাৎ, কুরআন বলতে চাচ্ছে, লোহা পৃথিবিতে উৎপন্ন হয়নি বরং একে অন্য কোথাও থেকে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞান কী বলে?
আধুনিক কসমোলজি বলছে যে পৃথিবীতে প্রাপ্ত লোহা মহাকাশের কোন দানব নক্ষত্র থেকে এসেছে। শুধু পৃথিবীরই নয়, সমগ্র সৌরজগতের লোহাই এসেছে মহাকাশ থেকে। কারণ সূর্যের তাপমাত্রা লৌহ উৎপাদনের  জন্য যথেষ্ট নয়। নাসার মতে, সূর্যের মজ্জায় (core) তাপমাত্রা ১৫ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস (১.৫ কোটি)। আর সূর্যের ফটোস্ফিয়ার বা আলোকমণ্ডলের (photosphere) তাপমাত্রা ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সুপারনোভা বিস্ফোরণের ছবি 

সূর্যের তুলনায় অনেক বড় নক্ষত্রেই লৌহ উৎপন্ন হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা কয়েকশ মিলিয়ন ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। যখন কোন নক্ষত্রে লৌহসহ ভারী ধাতুসমূহের পরিমাণ অত্যাধিক হয়ে যায় তখন নক্ষত্রটি এদেরকে আর ধারণ করতে  পারে না। এক সময় এটি বিষ্ফোরিত হয়। একেই বলে নোভা বা সুপারনোভা (আকার আরো বড় হলে)।
এ ব্যাপারে একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র নিম্ন তথ্য দিচ্ছে-
গভীর সমুদ্রে লোহার আধিক্যকে ৫০ লাখ বছর আগের ৯০ আলোকবর্ষ দূরের একটি সুপারনোভা বিষ্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। Iron-60 হলো লোহার একটি তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ। বর্তমানে ভূতাত্ত্বিক স্তরসমূহে এই আইসোটোপটির প্রাচুর্য্য থেকে বোঝা যায় নিকটবর্তী মহাকাশে মৌলসমূহের কেন্দ্রীয় সংশ্লেষণ (Nucleosynthesis) হয়ে ধুলিকণার অংশ হিসেবে  এরা পৃথিবীতে এসে পড়েছে। 
৭ম শতকে এ তথ্য পৃথিবীর মানুষের জানা ছিল না। তাহলে মুহাম্মাদ সা. তা কিভাবে জানলেন? সহজ উত্তর, আল্লাহই জানিয়েছেন।

পুনশ্চঃ সুরা আল হাদিদ কুরআনের ৫৭তম সুরা। আরবিতে 'আল হাদিদ' শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মানগুলো যোগ করলে ৫৭ হয়। আর হাদিদ শব্দটির সংখ্যাতাত্বিক মান ২৬ যা আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যার সমান।

সোর্সঃ
১. http://solarsystem.nasa.gov/planets/profile.cfm?Object=Sun&Display=OverviewLong
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Supernova#Source_of_heavy_elements
৩. http://heasarc.gsfc.nasa.gov/docs/objects/snrs/snrstext.html
৪. https://www.americanscientist.org/issues/issue.aspx?id=862&y=0&no=&content=true&page=7&css=print
৫. http://www.miraclesofthequran.com/scientific_30.html

কুরআনের প্রশংসায় অমুসলিম মনীষীরা

নাযিল হবার পর থেকে কুরআন মানবজাতির জন্যে পথনির্দেশ পাবার একমাত্র নির্ভুল গ্রন্থ। এ সত্য সকল নিষ্ঠাবান মুসলিমের পাশাপাশি অনেক অমুসলিম গবেষকও স্বীকার করে গেছেন। এখানে এমন কিছু উক্তি দেওয়া হলো। মনে রাখতে হবে প্রত্যেকেই তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কুরআনকে বিবেচনা করেছেন। বিভিন্ন কারণে নিজেরা ইসলামে প্রবেশ করতে না পারলেও (বা গোপন রাখলেও) সত্যকে স্বীকার করতে পিছপা হননি।

১. স্যার ডায়মন্ড বার্স:
কুরআনের বিধানাবলী শাহানশাহ থেকে শুরু করে পর্ণকুটিরের অধিবাসী পর্যন্ত সকলেরই জন্যেই সমান উপযোগী ও কল্যাণকর। দুনিয়ার জন্য কোন ব্যাবস্থায় এর বিকল্প খুঁজে পাওয়া একবারেই অসম্ভব। 

২. আর্নেস্ট রিনান:
কুরআন নির্ভুল, এ বইয়ে কোন রদবদল ঘটেনি। আর যখনই কুরআন শুনবেন আপনি ম্পন্দিত হবেন। আর আপনি এর বিধানগুলো যতই পর্যালোচনা করবেন ততই একে সম্মান করতে থাকবেন।
৩. লিও টলস্টয় (বিখ্যাত রুশ দার্শনিক):
আমি কুরআন পড়বার পর বুঝলাম মানবতার জন্যে এই আসমনী বিধানাবলীই দরকার।
তিনি আরো বলেন,
কুরআনের বিধিবিধান সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে কারণ এটা মন-মানস, যুক্তি ও প্রজ্ঞার সাথে সংগতিপূর্ণ
৪. গিবন বলেছেনঃ
জীবনের প্রতিটি শাখার কার্যকরী বিধান কুরআনে মওজুদ রয়েছে।  
৫. মাইকেল এইচ হার্ট:
কুরআন ছাড়া ইতিহাসে এমন দ্বিতীয় বই নেই যেটা কোন সংশোধন ছাড়াই নিজস্ব ভাষা নিয়েই পূর্ণাঙ্গ। 
৬. জেইমস জেন্জ (জ্যোতির্বিদ):
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, 'কুরআন ঈশ্বর কতৃক নাযিলকৃত গ্রন্থ' 
৭. অধ্যাপক আইরিন বার্গ (অসলো বিশ্ববিদ্যালয়):
সন্দেহাতীতভাবে কুরআন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থেকেই প্রদত্ত। 
৮. ড. মরিস বুকাইলি:
এটা অসম্ভব যে মুহাম্মাদ সা. নিজেই এই বই রচনা করেছেন,.. কীভাবে তিনি বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলী কোন ভুল না করেই ঘোষণা করেছেন যা আর কেউ পারেনি?

৯. ইউশিদো কোজান (জাপানী প্রফেসর):
আমি কুরআনকে ঈশ্বরের সত্য বাণী হিসেবে মেনে নিতে কোন জটিলতা দেখি না 
১০. আলবার্ট আইনস্টাইন:
কুরআন হচ্ছে কিছু বিধানের সমষ্টি যেগুলো মানুষকে সঠিক পথনির্দেশনা দেয় আর তা এমনভাবে যে সকল মহান দার্শনিকগণই এটা স্বীকার না করে পারেননা।

১১. উইল ডোরান্ট:
কুরআনের ধর্মীয় সমাধান পার্থিব দিকের সমাধানও বটে আর এর সবকিছুই আল্লাহ কতৃক নাযিলকৃত, এতে রয়েছে বিধানাবলী যেমন ভালো আচরণ, স্বাস্হ্য, বিবাহ, তালাক, শিশু,দাস ও প্রাণীদের সাথে আচরণের নীতিমালা, বাণিজ্য, রাজনীতি, অবৈধ মুনাফা, ঋণ, চুক্তি, শিল্প, সম্পদ, শাস্তি, যুদ্ধ এবং শান্তি বিষয়ক। 

১২. পি. এইচ করবিন:
মুহাম্মাদ সা. যদি কুসংস্কারাচাছান্ন হতেন আর কুরআন যদি ওহী না হতো তাহলে তিনি মানুষকে বিজ্ঞানের প্রতি আমন্ত্রণ জানাতে সাহস পেতেন না।  

১৩. জর্জ বার্নাড’শ:
একদিন ইউরোপ এই ধর্ম (ইসলাম) কে ও মুহাম্মাদ সা. এর বইটিকে গ্রহণ করে নিবে। 

১৪. মহাত্মা গান্ধী:
কুরআন শেখার মাধ্যমে প্রত্যেকেই ঐশী ও ধর্মীয় গূঢ জ্ঞান অর্জন করবে। আমরা কুরআনে অন্য ধর্মকে পরিবর্তনের মত কোন বাধ্যবাধকতা দেখিনা। এই গ্রন্থ সাবলীলভাবে বলেছে, ‘ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। 

১৫. ডক্টর অসওয়েল জনসনঃ
কুরআনের প্রজ্ঞাময় বিধানাবলী এতই কার্যকরী এবং সর্বকালের উপযোগী যে সর্বযুগের দাবীই উহা পূরণ করতে সক্ষম। কর্ম কোলাহলপূর্ণ নগরী, মুখর জনপদ, শুণ্য মরুভূমি এবং দেশ হতে দেশান্তর পর্যন্ত সব জায়গায় এ বাণী সমভাবে ধ্বনিত হতে দেখা যায়।